গুলসা পোনার মানোন্নয়ন, চাষের সময়কাল ও বৈজ্ঞানিক পুকুর প্রস্তুতি নির্দেশিকা
প্রবন্ধের সংক্ষিপ্তসার
“গুলসা মাছের ইনব্রিডিং (আন্তঃপ্রজনন) সমস্যা, রেণু ও চারাপোনা সংগ্রহের সঠিক সময় এবং কালচার ও নার্সারি পুকুর প্রস্তুতির ১০টি বিজ্ঞানসম্মত ধাপ।”
ভূমিকা ও ইনব্রিডিং (আন্তঃপ্রজনন) সমস্যাকৃত্রিমভাবে উৎপাদিত গুলসা মাছের পোনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো ইনব্রিডিং (আন্তঃপ্রজনন)। বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো হ্যাচারিতে সম্পূর্ণ ইনব্রিডিং-মুক্ত গুলসা পোনা উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না। ব্রুডস্টকের মান ভালো না হলে পোনা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই রোগে আক্রান্ত হয়। তাই রেণু ও পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারিগুলোর মানোন্নয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।
চাষের সময়কাল ও পোনা সংগ্রহগুলসা মাছের চাষকাল সাধারণত ৬–৮ মাস। এপ্রিল মাস থেকে হ্যাচারিগুলো থেকে সুস্থ রেণু পোনা সংগ্রহ করা যায়। আর মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে চারা পোনা (১.৫ থেকে ২ ইঞ্চি) সরাসরি কালচার পুকুরে মজুদের জন্য সংগ্রহ করা সম্ভব।
১. নার্সারি পুকুর নির্বাচন ও বৈশিষ্ট্য৩ দিন বয়সী রেণু পোনা সংগ্রহ করে নার্সারি পুকুরে ১৮–৩০ দিন পর্যন্ত প্রতিপালন করা হয়। এর আদর্শ বৈশিষ্ট্য হলো: আয়তন ১০–২০ শতাংশ, গভীরতা ২.৫–৩ ফুট। এটি অবশ্যই বন্যামুক্ত এবং দোঁআশ মাটির হতে হবে।
২. কালচার পুকুর নির্বাচন ও বৈশিষ্ট্যএক থেকে দুই কড় সাইজের পোনা মজুদ করে বাজারজাতযোগ্য মাছ উৎপাদনের জন্য কালচার পুকুরের বৈশিষ্ট্য হলো: আয়তন ২০–১০০ শতাংশ, পানির গভীরতা ৫–৬ ফুট। পুকুরটি বন্যামুক্ত, গাছের পাতা যেন না পড়ে এবং বিদ্যুৎ-সুবিধা বা এয়ারেশন যুক্ত স্থানে হওয়া বাঞ্ছনীয়।
পুকুর প্রস্তুতির ১০টি বিজ্ঞানসম্মত ধাপ (১-৫)(১) পুরাতন পানি সম্পূর্ণ সেচে শুকিয়ে নেওয়া, (২) কাদা মাটি রোদে ভালোমতো শুকানো, (৩) তলা থেকে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি মাটি তুলে পাড় মেরামত করা, (৪) প্রতি শতাংশে ১২০-১৫০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেওয়া, (৫) ৩ দিন পর প্রতি শতাংশে ৭সা-১০০০ গ্রাম চুন প্রয়োগ করা।
পুকুর প্রস্তুতির ১০টি বিজ্ঞানসম্মত ধাপ (৬-১০)(৬) চুন দেওয়ার ৩ দিন পর নতুন পানি প্রবেশ করানো, (৭) পানি দেওয়ার পরদিন প্রতি শতাংশে ৫০-৭৫ গ্রাম জিওপ্রোব প্লাস (Geoprob Plus) এবং ৩-৪ গ্রাম গ্যাসোনাল (Gasonal) প্রয়োগ করা, (৮) ৩ দিন পর বায়োপ্রোব ম্যাক্স (Bioprob Max) প্রতি শতাংশে ১০-১৫ গ্রাম ছিটানো, (৯) বায়োপ্রোব ম্যাক্স (Bioprob Max) দেওয়ার ২-৩ দিন পর পোনা মজুদ করা, (১০) রেণু মজুদের ঠিক পূর্বে তলদেশ হালকাভাবে নাড়তে হবে বা হরা টানতে হবে এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করতে অক্সিএড গ্রানুলার (Oxyadd Granular) দিতে হবে। পোনা মজুদের ২৪ ঘণ্টা আগে প্রয়োজনে প্রতি শতাংশে ৫ মিলি সুমিথিয়ন বা হাঁসপোকা কিলার প্রয়োগ করা যেতে পারে।
পুকুরের স্বাস্থ্য ও মাছের রোগ নিয়ে চিন্তিত?
আমাদের এআই-চালিত "একুয়া ডক্টর" ডায়াগনস্টিক টুল ব্যবহার করে পুকুরের পানি ও রোগের তাৎক্ষণিক সমাধান পান।
